Sunday, September 20, 2026

সর্বশেষ

আইসিসিবিতে কাল বসছে কসমেটিকা ঢাকা, অংশ নিচ্ছে ১৬ দেশ

বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল কসমেটিকস, পার্সোনাল কেয়ার ও হাইজিন পণ্যের বাজারের সম্ভাবনা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সামনে তুলে ধরতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’।

আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাউয়াদি, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুনসহ আরও অনেকেই। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ভারতসহ ১৬ দেশের প্রখ্যাত সব প্রসাধনী ব্র্যান্ড, প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, খুচরা বিক্রেতা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তিন দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে থাকবে শতাধিক পণ্যের স্টল, লাইভ ডেমো, বিউটি কনসালটেশন, স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ।

বর্তমানে দেশে বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তারাও কসমেটিকস, টলয়েট্রিজ ও পার্সোনাল কেয়ার খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বাজারে স্থানীয় ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান, প্যাকেজিং ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনে বিনিয়োগও বাড়ছে। মূল্যসাশ্রয়ী পণ্যের চাহিদা বাড়ার ফলে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো বাজারে অংশ বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে বড় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতিও বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।

এই পরিস্থিতিতে কসমেটিকস শিল্পে বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা রয়েছে স্থানীয় কাঁচামাল উৎপাদন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনে। স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল ও উপকরণ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে বাংলাদেশে উৎপাদিত মানসম্মত কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে পারে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে কসমেটিকস, টয়লেট্রিজ ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্যের বাজারের আকার বর্তমানে ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর আগে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (BTTC) এক গবেষণায় কসমেটিকস ও হাইজিন পণ্যের বাজারের আকার ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। স্কিনকেয়ার, হেয়ার কেয়ার, কালার কসমেটিকস, ফ্র্যাগরেন্স, গ্রুমিং ও হাইজিন পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ বাজারের পরিধি প্রতি বছরই প্রবৃদ্ধি লাভ করছে।

বাজারের এই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) বিনিয়োগ কাঠামোয় কসমেটিকস ও টয়লেট্রিজ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শিল্পখাতগুলোর একটি। স্থানীয় উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্কোয়াডমাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানজিন সুলতানা প্রিয়াংকা বলেন, ‘বাংলাদেশের কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার, ফ্র্যাগ্রেন্স ও পার্সোনাল কেয়ার খাত এখন একটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হয়েছে। এবারের কসমেটিকস, স্কিনকেয়ার, ফ্র্যাগ্রেন্স, পার্সোনাল কেয়ার ও হাইজিন পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। আয়োজকদের আশা, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

এবারের প্রদর্শনীতেও বিভিন্ন দেশের কসমেটিকস, পার্সোনাল কেয়ার ও হাইজিন পণ্য, প্রযুক্তি ও সেবা প্রদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। আয়োজকদের আশা, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় এ শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রদর্শনীটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সর্বশেষ

নির্বাচিত

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.