Sunday, September 20, 2026

সর্বশেষ

দুই দিনেই ইনিংসে হার বাংলাদেশের, সমতায় সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া

ডারউইনের বাংলাদেশ আর ম্যাকাইয়ের বাংলাদেশ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল যে দলটি, ম্যাকাইতে নেমে যেন তারা ২৩ বছর আগের দুঃসহ স্মৃতি ফেরাল। প্রথম টেস্টে চার দিনে ১১ সেশনজুড়ে ব্যাটে-বলে দাপট দেখানো বাংলাদেশ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় দুই দিন শেষ না হতেই ইনিংস ও ৫১ রানে হার দেখল। হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ করল ১-১ এ সমতায় থেকে।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ কোনো পাত্তাই পায়নি। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি। ৯৫ রানে থামে তারা। ২১ বছরে প্রথমবার কোনো দল দুই ইনিংসেই একশর আগে অলআউট হলো। এর আগে শেষবার ২০০৫ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ৫৯ ও ৯৯ রান করে হার দেখে।

বাংলাদেশের এই অসহায় আত্মসমর্পণের ম্যাচে আলো কেড়েছেন শরিফুল ইসলাম। বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিং করেছেন তিনি। সাত উইকেট পেয়েছেন ৪৮ রান দিয়ে। ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারে সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান শরিফুল। বাংলাদেশ এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল। কিন্তু কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলে রিভিউ নেয় তারা। শরিফুলের ইনসুইং ইয়র্কার গ্রিনের পায়ের আঙুলে লেগে তাকে ছিটকে ফেলে দেয়। বলটি ডিপ থার্ডে গড়িয়ে গেলে তারা একটি লেগ বাই রান নেয়। রিভিউয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০ চারে ৬৭ রানে থামেন গ্রিন।

তারপর নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন। লায়ন ৬২ বলে চার চার ও এক ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানান তাইজুল ইসলাম। ২১০ রানে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করে বাংলাদেশ, স্বাগতিকরা লিড পায় ১৪৬ রানের।

কিন্তু শুরুতেই স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে অজি পেসারের কাছে টানা দুটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। প্রথম ২ ওভারে ৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে স্টার্ক সাদমান ইসলামকে (১) পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান। পরের বলে মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে সফরকারীরা।

শান্ত এসে মারমুখী ব্যাটিং করেন। এর মধ্যে নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চার মারেন তিনি। প্রায় একশ স্ট্রাইক রেটে রানের গতি বাড়ান অধিনায়ক। কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির সামনে স্টার্কের ক্যাচ হন তিনি। ৩৪ বলে ৯ রান আসে এক নম্বরে নামা ব্যাটারের কাছ থেকে। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর টানা দুটি ইনিংসে ডাক মারেন তানজিদ, এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে করে ৩৯ রান। ২৩ রানে শান্ত ও ৪ রানে মুশফিক অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নেমে ধসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারায় তারা। একে একে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম উইকেট হারান। ৮২ রানে ৮ উইকেট পড়ে তাদের।

দ্বিতীয় সেশনে মুশফিকের সঙ্গে শান্তর ২৭ রানের জুটি ভেঙে যায় লায়নের বলে। তারপর মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে টানা তৃতীয় ইনিংসে ডাক মারেন লিটন। প্যাট কামিন্স টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ধরা পড়েন। তারপর হাসান শর্ট লেগে ট্র্যাভিস হেডের সহজ ক্যাচ হন ২ রানে। মাঠে নেমে মুশফিকের সঙ্গে দেখেশুনে খেলছিলেন তাইজুল। ২৪ বল খেলে ৭ রান করে তিনি স্টার্কের বলে বোল্ড হন। অজি পেসার ম্যাচে দশম উইকেট পান।

৮ উইকেটে ৯৫ রানে শেষ সেশনের বিরতিতে যায় তারা। মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। চা বিরতি থেকে ফিরে আর তিন বল টিকে ছিল বাংলাদেশ। লায়ন বল হাতে নিয়ে প্রথম ডেলিভারিতে তাসকিন আহমেদকে স্টিভ স্মিথের ক্যাচ বানান। ১১ নম্বরে প্রথম ইনিংসে সেরা স্কোর করা শরিফুল ইসলাম ২ বল খেলে ডাক মারেন। তাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন লায়ন।

১৯৩২ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম টেস্ট দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। মাত্র ৭৫০ বল খেলা হয়েছে। ৯৪ বছর আগে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৬৫৬ বলে। সর্বকালের সংক্ষিপ্ততম টেস্টের তালিকায় এটি চতুর্থ স্থানে।

সর্বশেষ

নির্বাচিত

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.