দেশের গ্রাহকদের কমমূল্যের মানসম্পন্ন স্মার্টফোন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে ইনফিনিক্স। দেশে কয়েক লাখ ডলার বিদেশি বিনিয়োগ এনে কারখানাও প্রতিষ্ঠা করেছে গ্লোবাল ব্র্যান্ডটি। নতুন নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে গ্রাহকদের অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয়ও করিয়ে দিয়েছে ব্র্যান্ডটি।
ব্র্যান্ডটির সুনাম যখন চারদিকে তখন একটি ‘ফোন বিস্ফোরণের’ দাবি তুলে কোম্পানির কাছে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য চাওয়া হলেও ওই দুই যুবক সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, নাহিদ হোসেন ও সুমন নামের ওই দুই যুবক নারায়ণগঞ্জের একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে সুমন দাবি করেন, নাহিদের ব্যবহৃত ইনফিনিক্স ফোনটি বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সময় ফোনটি গরম হয়ে যায়।
ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন বলে জানা গেছে। তারা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করতে শুরু করেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ফোনটি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেটি সরবরাহ করতে তারা রাজি হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে গ্রাহক নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলছেন না। তার বন্ধু পরিচয় দিয়ে সুমন কথা বলছেন, কিন্তু তিনিও প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছেন। কখন নাহিদের সঙ্গে কথা বলা যাবে জানতে চাইলে সুমন বলেন, তার সঙ্গে কথা বলা যাবে না। সে কথা বলবে না।
সুমন বলেন, ফোনটি কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাই না। এসব নিয়ে আমরা কোনো কথা বলবো না।’
এ সময় তিনি কোম্পানির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা চাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তাদের দাবি, কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ফোনটি পরীক্ষার জন্য দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে ফোনটিতে প্রকৃতপক্ষে বিস্ফোরণ ঘটেছিল কি না, ওভারচার্জিংয়ের কারণে এমন হয়েছে নাকি এর পেছনে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরীক্ষার ফলাফল ছাড়া ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
দেশে এখন এমন ভুয়া খবর ছড়িয়ে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড অথবা কোম্পানির নামে বদনাম করার বিষয়টি খুব সাধারণ হিসেবে উঠে এসেছে বলে জানান এক ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, এভাবে বিদেশি কোম্পানির বদনাম করে তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করা হয়। এমন অবস্থা চলতে থাকলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাবে এবং কেউ আর বিনিয়োগ করতে চাইবে না।
এদিকে, ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

