Sunday, September 20, 2026

সর্বশেষ

পাঁচ দেশ থেকেই আসে প্রবাসী আয়ের ৬২%, শীর্ষ উৎস সৌদি আরব

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স তথা প্রবাসী আয় এসেছে, তার প্রায় ৬২ শতাংশেরই উৎস হলো পাঁচটি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে—সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও প্রবাসী বসবাস করায় এগুলো থেকে প্রবাসী আয়ের বড় অংশ আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা মোট ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি দেশ থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার বা প্রায় ৬২ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট আয়ের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার আসে যুক্তরাজ্য থেকে। এ তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয়, ৩২২ কোটি ডলার নিয়ে মালয়েশিয়া চতুর্থ এবং ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।

এর বাইরে ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এ ৬ দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে।

শুধু মে মাসের হিসাবেও রেমিট্যান্স–প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। ওই মাসে প্রবাসীরা মোট ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে। আর ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইউএই।

গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই এককভাবে প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাজ্য। অর্থবছরের শুরুতে, অর্থাৎ গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরে তা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে মে মাসে ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সরকার প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। এ জন্য ব্যাংকিং মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যম নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয়প্রবাহে।

তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। তাঁদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিক বেশি থাকায় সেখানকার রেমিট্যান্স সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন এলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ

নির্বাচিত

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.