Sunday, September 20, 2026

সর্বশেষ

স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়ে ডাব্লিউএসইউপি’র নারী উদ্যোক্তা তৈরির প্রশিক্ষণ

স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রির মাধ্যমে তরুণ নারীদের আয়বর্ধক কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কুমিল্লায়। এ লক্ষ্যে তরুণ নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসা পরিচালনা, বাজার চিহ্নিতকরণ ও বিক্রয় কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

‘ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন ফর দ্য আরবান পপুলেশনস’ (ডাব্লিউএসইউপি) বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং দ্য কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর লক্ষ্য ছিল WASH (পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি) খাতের সঙ্গে তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিনের সহজলভ্যতা বাড়ানো।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীদের ব্যবসার সুযোগ চিহ্নিত করা, সম্ভাব্য গ্রাহক নির্বাচন, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, লাভ-ক্ষতির হিসাব, বিপণন ও বিক্রয় কৌশল এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নিজ নিজ এলাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রির সম্ভাব্য বাজার ও গ্রাহক চিহ্নিত করা। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারা নিজ নিজ এলাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রির কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলে আয়োজকেরা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন। তিনি বলেন, “নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের জন্য বাস্তব ও টেকসই আয়বর্ধক সুযোগ তৈরি করা জরুরি। স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রির সঙ্গে উদ্যোক্তা উন্নয়নকে যুক্ত করার এ উদ্যোগটি একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন ও মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তিনি ডাব্লিউএসইউপি এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং বলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।”

এ ছাড়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ওয়াটার সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “WASH সেবা শুধু নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় পর্যায়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য করতে তরুণ নারীদের সম্পৃক্ত করা একটি কার্যকর উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে একই সঙ্গে সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।”

প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. পারভীন আক্তার এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ এবং অপরাজিতা ট্রেড সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা শেলিনা নাজনীন শেলী । সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া, শেলিনা নাজনীন শেলী স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

মোছা. পারভীন আক্তার বলেন, “নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, তাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং বাস্তবে ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রির মতো প্রয়োজনীয় একটি পণ্যকে কেন্দ্র করে নারীরা ছোট পরিসর থেকে নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণ করতে পারেন।”

মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, “তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করা যুব উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ নারীরা ব্যবসার মৌলিক বিষয়গুলো জানার পাশাপাশি বাজার ও গ্রাহকের চাহিদা বুঝে নিজেদের উদ্যোগ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছেন। আমরা আশা করি, আগ্রহী অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবেন।”

অপরাজিতা ট্রেড সেন্টারের স্বত্বাধিকারী ও নারী উদ্যোক্তা শেলিনা নাজনীন শেলী বলেন, “একজন উদ্যোক্তা হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি মনে করি, ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রথম প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস ও সঠিক পরিকল্পনা। স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তরুণ নারীরা যদি স্থানীয় চাহিদা বুঝে মানসম্মত পণ্য সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারেন, তাহলে এটি তাদের জন্য একটি ভালো আয়বর্ধক উদ্যোগ হতে পারে।”

আয়োজকেরা বলছেন, স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রিকে শুধু একটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম হিসেবে নয়, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের এ কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে একদিকে তাদের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রী আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

ডাব্লিউএসইউপি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডাব্লিউএএসএইচ খাতে তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করার এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারের সহযোগিতায় স্থানীয় পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি মাসিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সর্বশেষ

নির্বাচিত

Stay in touch

To be updated with all the latest news, offers and special announcements.